![]()


প্রবাস ডেস্ক ::
অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (ওবিই) পদকপ্রাপ্ত, বাংলাদেশের কৃতি সন্তান ও বিশিষ্ট সমাজসেবক দবিরুল ইসলাম চৌধুরী-এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে।
এক যৌথ শোকবার্তায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কনভেনর মোহাম্মদ মকিস মনসুর, কো-কনভেনর মসুদ আহমদ, সদস্য সচিব ড. মুজিবুর রহমান, ট্রেজারার এম আসরাফ মিয়া এবং কেন্দ্রীয় ও রিজিওনাল নেতৃবৃন্দ বলেন, দবিরুল ইসলাম চৌধুরী মানবকল্যাণ, দানশীলতা ও সমাজসেবায় আজীবন নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। তাঁর জীবন ছিল মানবতার সেবায় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাবে।
শোকবার্তায় গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র কেন্দ্রীয় কনভেনর এবং ইউকে বিডি টিভি-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মকিস মনসুর বলেন, “শ্রদ্ধেয় শতবর্ষী দবির চাচা বিশ্বব্যাপী মানুষের কল্যাণে তহবিল সংগ্রহ ও মানবসেবার এক গৌরবময় দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন।”
মরহুমের বড় ছেলে, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সাপ্তাহিক জনমত-এর সম্পাদকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান আতিক চৌধুরী তাঁর পিতার রুহের মাগফিরাত কামনা করে কমিউনিটির কাছে দোয়া কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য, ১৯২০ সালের ১ জানুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন দবিরুল ইসলাম চৌধুরী। ১৯৫৭ সালে ইংরেজি সাহিত্য অধ্যয়নের উদ্দেশ্যে তিনি ব্রিটেনে পাড়ি জমান এবং পরবর্তীতে লন্ডনের বাইরে সেন্ট আলবানসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দেশ ও প্রবাসে শিক্ষা, মানবকল্যাণ ও সমাজসেবায় অসামান্য অবদান রাখেন। তিনি একজন চারণ কবি হিসেবেও পরিচিত ছিলেন এবং বহু কবিতা রচনা করেন।
করোনা মহামারির কঠিন সময়ে তাঁর মানবিক কর্মকাণ্ড বিশ্বব্যাপী নতুন করে আলোচিত হয়। ২০২০ সালের রমজানে রোজা রেখে তিনি পূর্ব লন্ডনের বো এলাকার বাসার সামনের বাগানে ৯৭০ লুপ হাঁটেন এবং এর মাধ্যমে £৪২০,০০০-এর বেশি তহবিল সংগ্রহ করেন। সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ এনএইচএসে প্রদান করা হয় এবং বাকি অর্থ বিশ্বের দশটিরও বেশি দেশের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সহায়তায় বিভিন্ন দাতব্য সংস্থায় দেওয়া হয়।
নিজ জন্মভূমি সিলেটের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ এলাকায় তিনি ১৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি খেয়াঘাট প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি একবার সংসদ নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং ১৯৭১ সালে সেন্ট আলবানস অ্যাকশন কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
গত ১৩ জানুয়ারি রাত ১টা ২০ মিনিটে লন্ডনের রয়্যাল লন্ডন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০৬ বছর।